ইতিহাসকে মাথায় রাখতে হয়। সেই মান্যতার শ্রদ্ধা আবহে ‘অঙ্কপুস্তক’ (১৮৫৭ সংস্করণ) প্রকাশ করা হোল। আজকের গণিতপ্রেমী সমাজ জানতে পারবে প্রায় ১৬৫ বছর আগে রচিত গণিতের পাঠ্যপুস্তকের চেহারাটা কেমন ছিল। বলা যায় শিকড়ের সন্ধান। এবং এই ঐতিহ্যের ধারায় কমবেশি ৫০ বছরের মধ্যে আমরা পাব আনন্দমোহন বসু (১৮৪৭-১৯০৬) (প্রথম গণিত র্যাংলার), স্বনামধন্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (১৮৬৪-১৯২৪), শ্যামাদাস মুখোপাধ্যায় (১৮৬৬-১৯৩৭), বিভূতিভূষণ দত্ত (১৮৮৮-১৯৫৮), অমিয়চরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯১-১৯৬৮), প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ (১৮৯৩-১৯৭২), মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩-১৯৫৬), সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪), রাজচন্দ্র বসু (১৯০১-১৯৮৯) প্রমুখ।
এই বইটির পরিচিতিমূলক প্রাসঙ্গিক দুটি রচনা পরিশিষ্টে সংযোজিত হয়েছে। ১) অধ্যাপক প্রদীপকুমার মজুমদারের লেখা- ‘মে-গণিত’ গ্রন্থ-অঙ্কপুস্তক, ২) অবসরপ্রাপ্ত গণিত শিক্ষক-লেখক সিদ্ধার্থশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের একটি নিবন্ধ ‘বাংলা ভাষায় গণিত পুস্তক: একটি পরিক্রমা’। এই দুটি রচনা পাঠককে সেই কালের নিরিখে গণিত শিক্ষা প্রয়াস কেমন ছিল-তা বুঝতে সাহায্য করবে।”
বিংশ শতাব্দীর প্রায় অর্ধশতক (১৯৫০ অবধি) কাল পর্যন্ত গোটা বাংলায় শুভঙ্করের দাপট প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। বয়স্ক মানুষজন মুখে মুখে শুভঙ্কর আওড়াতেন নানা বিষয়ের প্রসঙ্গে। ১৯৫৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ‘নয়া পয়সা’ (দশমিক পদ্ধতি) ব্যবস্থা চালু করলে ধীরে ধীরে প্রাচীন প্রথা অপসৃত হতে থাকে। কড়া, গণ্ডা, পোণ, চৌকিয়া, বুড়িয়া, কাঠা, ছটাক, সের, দশকিয়া, তৌরিজের ধারা ইত্যাদি মানুষ ভুলে যেতে শুরু করে। বর্তমান প্রজন্ম এসবের কোন ধারণা করতেও খুবই অসুবিধায় পড়বে। বিশেষ করে ক্যালকুলেটর, কমপিউটার ব্যবস্থার অতি-জনপ্রিয় ব্যবহারের কারণে। মুখে মুখে হিসাব প্রায় উঠে যেতে বসেছে। তবে বাজারের খুচরো তরকারি বিক্রেতা, মাছওয়ালা ইত্যাদি এখনও তুরন্ত দ্রুততায় দাম বলে দিতে পারে নির্ভুলভাবে।
Reviews
There are no reviews yet.
Be the first to review “অঙ্ক পুস্তক (MAY’S GANITA)” Cancel reply
Reviews
There are no reviews yet.