বিশেষত বাংলার পথিকৃৎ নারীদের নিয়ে ইতস্তত বা বিক্ষিপ্ত কিছু কাজ যে হয়নি তা নয়। বরং বলা যায় এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলায় (বাংলাদেশে) এই কাজের একটা ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যায় ৷ একটা সময় ছিল বাংলার নারী এক অন্ধকার সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছে। এটা অনস্বীকার্য নারীদের জীবনের সবচেয়ে বড়ো অংশ জুড়ে থাকত একটি শব্দ—“না”। বিশেষ করে মুসলিম নারীদের অবস্থা ছিল আরও শোচনীয়। হিন্দু নারীদের দুর্দশা মোচনে রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর-দের অবদান সকলেরই জানা। কিন্তু মুসলিম নারীদের অনেক কঠিন অনুশাসনের ভেতরে থাকতে হতো। সেখান থেকে তাদের প্রতিভার বিকাশ কোনও মতেই সম্ভব ছিলনা। মুসলিম নারী যে শুধু বাইরে চলাফেরা করতে পারত না তা নয়, তাদের অধিকার ছিল না শিক্ষায়, জ্ঞানচর্চায় বা মতামত প্রদানে। পরপুরুষ শুধু নয় অপরিচিত মহিলাদের সামনেও তারা নিজেদের আড়াল করে রাখত। কোন বাইরের লোক যেন তাদের কণ্ঠস্বর না শোনে তাই তাদের রাখা হতো অন্দরমহলে।
এই চিত্র শুধু বাংলার না, সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশেই এক সময় মেয়েদের সার্বিক অবস্থা এমনটাই ছিল। এই গ্রন্থে লেখিকা তহমীনা খাতুন আলোচিত ও অনালোচিত সেই সব নারী চরিত্রের ৫০ জনের কর্মময় জীবনের উপর চুম্বকে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছেন ‘পথিকৃৎ বাঙালি নারী’ গ্রন্থে। লেখিকার এই চেষ্টার সূত্র ধরে ধর্মমত নির্বিশেষে বাংলার নারী চরিত্র নিয়ে বিশদ ও বহুমুখী গবেষণার সুযোগ রয়েছে। সেই দিক থেকে ‘পথিকৃৎ বাঙালি নারী’ গ্রন্থটি একটি ব্যতিক্রমী গ্রন্থ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
Reviews
There are no reviews yet.
Be the first to review “পথিকৃৎ বাঙালি নারী (Pathikrit Bangali Naari)” Cancel reply
Reviews
There are no reviews yet.